পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস/জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্যের লড়াই, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের কারণে পাহাড়ের শান্তি আজ দূরের স্বপ্ন। ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির ২৮ বছর পরও এই গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র সমর্পণ না করে বরং নতুন করে সন্ত্রাসের জাল বিস্তার করছে।
জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃগোষ্ঠী সংঘর্ষ গত এক বছরে ৯০টির বেশি ঘটনা ঘটেছে, যাতে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিলে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে নিষ্ক্রিয় সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তি নিহত হন। খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে জেএসএস-ইউপিডিএফের গুলিতে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এপ্রিল ২০২৫-এ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রকে ইউপিডিএফ অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সাজেক, রুমা, থানচিসহ পর্যটন এলাকায় এই গোষ্ঠীগুলোর গোলাগুলি ও চাঁদাবাজির কারণে শত শত পর্যটক আটকা পড়েছেন। ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ জুম্ম জনগণকে নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন, তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ) ও জেএসএসের মধ্যে আধিপত্যের লড়াইয়ে পাহাড়ের গ্রামগুলোতে অবরোধ, মারধর ও পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালায় এক মারমা কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে ইউপিডিএফের উসকানির অভিযোগ উঠেছে, যা পরে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে তিন মারমা যুবক নিহত, বাড়িঘরে আগুন ও দোকান লুট হয়। পিসিজেএসএস নিজেদের প্রতিবেদনে অন্যদের দোষারোপ করলেও বাস্তবে তাদের নিজস্ব সশস্ত্র কার্যক্রমই অস্থিরতার প্রধান কারণ।
এই গোষ্ঠীগুলো শান্তিচুক্তির নামে ক্ষমতা ও অর্থের লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। অস্ত্র সমর্পণ না করে বরং নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহ ও যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সন্ত্রাস বজায় রাখছে। ফলে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নেই, উন্নয়ন প্রকল্প আটকে আছে এবং পাহাড়ের প্রকৃত শান্তি অধরাই রয়ে গেছে।
সরকারের উচিত এসব অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ অভিযান চালানো, অস্ত্র উদ্ধার করা এবং চাঁদাবাজির রুট উৎপাটন করা। রাজনৈতিক সংলাপের নামে আর সময় নষ্ট না করে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাহাড়ের সাধারণ মানুষ শান্তি চায়—জেএসএস-ইউপিডিএফের সশস্ত্র তাণ্ডব নয়। এই লড়াই কবে থামবে? যতদিন না এই গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র জমা দিয়ে আইনের শাসন মেনে চলে, ততদিন পাহাড়ের শান্তি ফিরবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস-ইউপিডিএফ-পিসিজেএসএসের সশস্ত্র তাণ্ডব: শান্তি কোথায়?
10