বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে প্রথমবারের মতো একটি বি-টু-বি (বিজনেস-টু-বিজনেস) প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
দুই দিনের সফরে মরক্কো সফররত প্রতিমন্ত্রীর এটি ছিল প্রধান আয়োজন ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। নতুন এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে আফ্রিকা, ইউরোপ এবং অন্যান্য অঞ্চলের বাণিজ্যিক সংযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য শুধু বাণিজ্য নয়, বরং উদ্ভাবননির্ভর ও মানুষকেন্দ্রিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, যা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেবে।’
তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ এবং ১৫০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রফতানি করছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়া, সিরামিক, হালকা প্রকৌশল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পেও দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে।
প্রতিমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরক্কোর ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনাও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। পরিবেশবান্ধব ও কার্বন শোষণক্ষম পাটপণ্যের ব্যবহার অটোমোবাইল ও ফ্যাশন শিল্পে বাড়ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আফ্রিকার দেশগুলো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানোর উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশি পাটপণ্যের চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে পাটজাত পণ্যের একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং হাসান সাখি যৌথভাবে এর উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস, রাবাত এবং মরক্কো চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সার্ভিসেস-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন শীর্ষ মরক্কান ব্যবসায়ী এবং সাত সদস্যের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ২০২৬ সালের নভেম্বরে মরক্কোর একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প হাব ও উদ্ভাবন কেন্দ্র পরিদর্শন করবে।
সফরের অংশ হিসেবে পরে রাবাতে মরক্কান ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং, রিসার্চ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাটিক স্টাডিজ-এ ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: আফ্রিকা ফোকাস’ শীর্ষক বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থভিত্তিক ও জনমুখী পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।