রাজনৈতিক ও দলীয় পর্যায়ে আদান-প্রদান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আজ আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও চীন|
এ সময় রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বেইজিংয়ের অব্যাহত সমর্থন চেয়েছে ঢাকা|
রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সম্মানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আয়োজিত প্রাতরাশ ˆবঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়|
বৈঠকে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ কাঠামোর আওতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে|
এ সময় প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য চীনের অব্যাহত কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন|
এছাড়া রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণ, দলীয় পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে|
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে উভয় পক্ষই চলতি বছরের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে|
লিউ চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন| একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে তার বিভাগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন|
অব্যাহত রাজনৈতিক সংলাপ, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চীনের আগ্রহের কথা জানান তিনি|
আলোচনাকালে লিউ হাইশিং তার পিতা লিউ শুচিংয়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন|
তিনি বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন|
লিউ জানান, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে লিউ শুচিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন|
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা গভীর করা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চীনের মন্ত্রী তিন দিনের সফরে গত ৩ নভে¤^র ঢাকায় আসেন|