বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিরোধী দল আবার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে। সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের আগেই রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া গণতন্ত্রের ভাষা নয়।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে লাভ বিডি শেয়ার নামের একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে চায়ের দোকানের ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আবার আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতেন, তারাও সেই ভাষায় কথা বলছে। করতে দেব না, চলতে দেব না, শেষ করতে দেব না—এ ধরনের কথা তারা বলতে শুরু করেছে।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হয়েছে তো মাত্র চার-পাঁচ মাস। এই চার-পাঁচ মাসে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। কাজটি এত সহজে বা এত দ্রুত হয় না। কারও হাতে আলাদিনের চেরাগ নেই যে রাতারাতি সব পরিবর্তন করে ফেলবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক পথে চলতে পারলে এবং গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিলে দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। আমরা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যান্ডেট পেয়েছি। সেই ম্যান্ডেট অনুযায়ী আমরা সংসদ পরিচালনা করব, দেশ পরিচালনা করব। আমাদের কাজ করতে দিন। আমরা ব্যর্থ হলে তখন আপনারা বলবেন যে আমরা দেশ পরিচালনা করতে পারিনি।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আসুন আমরা গণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলি। গণতন্ত্রকে তার পথে চলতে দিই। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজ করতে দিই। তাহলেই গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’
দেশের জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। তবে সংকটের মধ্যেও দেশে একদিনের জন্যও তেল-গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়নি। সরবরাহ কমলেও সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে।
আমদানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানি ব্যয়ের কারণে কিছুটা বেড়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, ‘ফ্যাসিবাদী সময়ে ৬০ লাখ মানুষের নামে মামলা হয়েছে, ২০ হাজার মানুষকে হত্যা এবং ১ হাজার ৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছিল। এখন সেই পরিস্থিতি নেই।’ দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে লাভ বিডি শেয়ারের সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জাহিদ খান সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেনসি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান শেষে সুবিধাভোগীদের হাতে চায়ের দোকান ঘরের নথিপত্র তুলে দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।