দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ, র্যাব, ডিএমপি, সিআইডি এবং বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ এবং জনগণের সহযোগিতার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৯ হাজার ২৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি থানায় আলাদাভাবে পরিচালিত অভিযানে আরও ২ হাজার ৬২৫ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, মিরপুর, শাহবাগ, বাড্ডা, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট ও উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রেফতার হয়েছে।
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি খুন, অর্থ পাচার, সাইবার অপরাধ, জালিয়াতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদসহ বিশেষায়িত অপরাধ তদন্তে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বিভিন্ন অপরাধে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি মানিলন্ডারিং সংশ্লিষ্ট।
অন্যদিকে র্যাব জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তারা মাদক, অবৈধ অস্ত্র, দালাল চক্র এবং ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন অপরাধে ৬২৭ জনকে গ্রেফতার এবং ৪৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মার্চ মাসে ৮৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৯৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবিও সক্রিয় রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, মাদক ও নারী-শিশু পাচার ঠেকাতে চলতি বছরের মার্চ মাসে বিভিন্ন অভিযানে ১৬৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন থানার কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত অভিযান, টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের কাজ চলছে। মোহাম্মদপুর থানায় মার্চ মাসে ৬৭৩ জনকে গ্রেফতার এবং ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং দমনে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো বলছে, সমন্বিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।