প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানি ও আকিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসে। এর মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো—একই পশু দিয়ে কি কোরবানি ও আকিকা একসঙ্গে আদায় করা যায়?
ইসলামি আলোচনায় দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে একক কোনো মত নেই। বিভিন্ন মাজহাব ও আলেমদের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে।
আকিকা হলো সন্তানের জন্মের পর আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে পশু জবাই করা একটি সুন্নত আমল। সাধারণভাবে এটি সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনে করা উত্তম হলেও পরবর্তীতেও করা যায়। আর কোরবানি হলো সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জিলহজ মাসে নির্ধারিত সময়ে আদায় করা ওয়াজিব ইবাদত।
অনেক পরিবারই সময় বা আর্থিক কারণে নির্ধারিত সময়ে আকিকা করতে না পেরে কোরবানির সময় এটি আদায় করার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে—একই পশুতে কি দুটি নিয়ত একসাথে করা যাবে?
ইসলামি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু আলেম বলেন, কোরবানির পশুর একটি অংশ বা ভাগে আকিকার নিয়ত করা যেতে পারে। বিশেষ করে গরু বা বড় পশুতে একাধিক অংশ থাকলে সেখানে কোরবানি ও আকিকা ভাগ করে করার সুযোগ রয়েছে বলে হানাফি মাজহাবে মত পাওয়া যায়।
অন্যদিকে কিছু আলেম ও অনুসারী এই পদ্ধতির সঙ্গে একমত নন এবং তারা কোরবানি ও আকিকাকে আলাদা আলাদা পশু দিয়ে আদায় করাকেই উত্তম মনে করেন।
তবে অধিকাংশ ইসলামি গবেষকের মতে, সুযোগ থাকলে দুটি ইবাদত আলাদা পশু দিয়ে আদায় করাই বেশি উত্তম। আর সামর্থ্য না থাকলে শরিয়তের নিয়ম অনুসারে ভাগের মাধ্যমে উভয় ইবাদত করার সুযোগও রয়েছে বলে মত পাওয়া যায়।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোরবানির পশু হতে হবে নির্দিষ্ট গৃহপালিত প্রাণী—যেমন গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ বা উট। আর আকিকার ক্ষেত্রে সাধারণত ছাগল বা খাসি ব্যবহারের প্রচলন বেশি।
সব মিলিয়ে, একই পশু দিয়ে কোরবানি ও আকিকা করা নিয়ে ইসলামে বিভিন্ন মত থাকলেও এটি নির্ভর করে অনুসৃত মাজহাব, সামর্থ্য এবং নিয়তের ওপর।