হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম এ আবেদন করেন। দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট-সংলগ্ন ধামাল কোট এলাকার ১০ নম্বর রোডের ৩৫ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন। আসামি অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য পালনে বাধা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আঘাত করার মাধ্যমে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করেন।
এতে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাভাবিক আগমন ব্যাহত হয়। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কি না, তা উদঘাটনের জন্য আসামিকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। সময়ের স্বল্পতার কারণে তাকে এ বিষয়ে যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।
মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ঘটনার বিষয়ে আসামিকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি স্বপরিবারে মদিনা থেকে ঢাকায় আসেন। শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ, ট্রলি ও জমজমের পানি নিয়ে বিলম্বের জেরে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে গালিগালাজের একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এ ছাড়া বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য, বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি এবং সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল বা পাত্র ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।