যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কায় জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো।
আজ মঙ্গলবার নির্বাচনের দিনেই বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সম্ভাব্য হামলা ও ইরানের পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
এ পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ জরুরি পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও জ্বালানি মজুদ জোরদার করছে।
এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযান কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে পাল্টা হামলায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। অক্টোবরের শেষে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ পারস্য উপসাগরের দিকে পাঠানো হয়েছে। এসব জাহাজে প্রায় নয় হাজার সেনা রয়েছেন।
থাইল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করছে। দেশটি আগের জরুরি মজুদ পরিকল্পনা নতুন পরিস্থিতির আলোকে যাচাই করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নাগরিকদের ফেরানোর প্রস্তুতি রেখেছে। সাইবার হামলার ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্স ফিলিপাইনের জ্বালানিমন্ত্রীর বরাতে জানিয়েছে, দেশটির বর্তমান মজুদ প্রায় ৫৫ দিনের চাহিদার সমান। তা বাড়াতে সৌদি আরব ও জাপানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এদিকে জাপান অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নয়টি দেশকে নিয়ে জরুরি তেল মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়াও সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি সংকটে পারস্পরিক সহায়তার চুক্তি এপিএসএ কার্যকরে জোর দিচ্ছে। গত ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১১ সদস্যের মধ্যে ছয়টি দেশ চুক্তিটি অনুমোদন করেছে।
এশিয়ার বহু দেশ জ্বালানি পরিবহনে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। কেসিএম ট্রেডের বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, উত্তেজনা বাড়লে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়াতে পারে। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশকেও বিশেষজ্ঞরা বিকল্প উৎস ও জরুরি মজুদ নিয়ে সতর্ক হতে বলছেন।