টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণার পর জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর এক গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির তথ্য উঠে আসে। এরপর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয় বিএসটিআই।
বিএসটিআই জানায়, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের কম আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এটি একটি উদীয়মান পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয়। তবে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে টুথপেস্টের জন্য বিডিএস ১২১৬:২০১২ মানদণ্ড কার্যকর রয়েছে। এই মান অনুযায়ী রাসায়নিক, অণুজীব ও নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নিয়ে টুথপেস্ট বাজারজাত করা যায়।
বিএসটিআইর ভাষ্য, টুথপেস্ট উৎপাদনে অনুমোদিত ৮১টি উপাদানের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক নেই। লাইসেন্স দেওয়ার সময় উৎপাদন প্রক্রিয়া ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও যাচাই করা হয়। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ নেই।
সংস্থাটি আরও বলেছে, কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেলেই সেটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা পণ্যটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এজন্য কণার উৎস, ধরন, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন।
এ কারণে ইএসডিওর কাছে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, পরীক্ষাপদ্ধতি এবং র-ডাটা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল ও পণ্যের উপাদানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিএসটিআই জানিয়েছে, বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে স্বাধীনভাবে পুনঃপরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড লঙ্ঘন করেছে বা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করেছে বলে প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্ত চিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে বিএসটিআই। প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পরীক্ষাপদ্ধতি সংযোজন করে মানদণ্ড হালনাগাদ করা হবে।
বিএসটিআই জনগণকে গুজব বা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হয়ে নিয়মিত মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার, টুথপেস্ট গিলে না ফেলার এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।