কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রত্যাশীদের জন্য আজ এক বড় অগ্রগতির দিন। দীর্ঘ ৮ বছর পর এই মামলার দুই প্রধান আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন কুমিল্লার আদালত। শুধু তাই নয়, যেহেতু একজন আসামি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন, তাই তাদের ধরতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে ‘রেড নোটিশ’ জারির নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা:
১. সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (ওরফে জাহিদ)। শুরু থেকেই তনুর পরিবারের অভিযোগ ছিল, এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
২. সাবেক সৈনিক শাহীন আলম। শোনা যাচ্ছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আত্মগোপনে রয়েছেন।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য:
পিবিআই-এর তদন্তে জানা গেছে, ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে এবার চতুর্থ এক ব্যক্তির রক্তের নমুনা পাওয়া গেছে। এর আগে তিনজনের নমুনার কথা জানা গেলেও, নতুন এই তথ্য মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ আদালতে যখন এই মামলার আরেক আসামি সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন “একজন খুনিরে আজ কাঠগড়ায় দেখলাম, চোখে শান্তি লাগছে।” দীর্ঘ ৮টি বছর এই বৃদ্ধ বাবা-মা তাদের সন্তানের ন্যায়বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। আজ অন্তত খুনিদের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এক চিলতে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর তনুর নিথর দেহ পাওয়া গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পার হলেও ন্যায়বিচারের দাবি স্তিমিত হয়নি। আমরা আশা করি, ইন্টারপোলের মাধ্যমে আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তনুর আত্মা তখনই শান্তি পাবে যখন প্রকৃত খুনিদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হবে।
ন্যায়বিচার হোক তনুর জন্য, বিচার হোক সকল অপরাধীর।