বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সামনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা ও রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের ইতিহাস আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, তরুণদের মধ্যে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রচিত বই ও গবেষণাধর্মী প্রকাশনা পাঠের সুযোগ বৃদ্ধি করা হলে তারা দেশের ইতিহাস ও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে।
শনিবার যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি ও ছাত্রদল যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান কেবল একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের এমন একজন নেতা, যিনি দেশপ্রেম, সততা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর অবদান ও ব্যক্তিগত সততা আজও মানুষের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণ ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার যে রাজনৈতিক দর্শন শহীদ জিয়া অনুসরণ করেছিলেন, সেই চেতনাকেই ধারণ করে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আত্মনির্ভর, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ দেশের জনগণের হাতেই নিরাপদ ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এর মধ্যে ছিল পবিত্র কুরআন খতম, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ, আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। এছাড়া জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।