ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করে রায় দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতের বিচারককে বিচারিক কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি এবং চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারিক কাজের প্রতি জনগণের আস্থা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তৎকালীন ট্রাইব্যুনালের ওই বিচারককে বিচারিক দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা এবং মামলার অন্যতম প্রধান আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম।
বাকি ১৪ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। অপর চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে কৌশলে নুসরাতকে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে ঢাকার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে নুসরাতের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মামলার বিচারকাজ শেষ করেন। রায়ে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে আসামিরা পৃথকভাবে আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের এই রায়ের মধ্য দিয়ে নুসরাত হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সর্বোচ্চ সাজায় বড় ধরনের পরিবর্তন এলো।