তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। সময় হিসেবে এটি খুব বেশি না হলেও, এই স্বল্প সময়েই সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে কার্যক্রম শুরু করেছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খননসহ নানা উদ্যোগের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দেশের পর্যটন খাতকে ঘিরে সরকারের নতুন পরিকল্পনা।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকা পর্যটন শিল্পকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে এবার উচ্চ পর্যায়ের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের এ কমিটিতে পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো—পর্যটনকে কেবল বিনোদনের খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী শিল্পে রূপান্তর করা।
সরকার মনে করছে, বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো যথেষ্ট সমৃদ্ধ। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, সুন্দরবনের মতো অনন্য বনাঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সৌন্দর্য, সিলেটের চা-বাগান কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, অবকাঠামো ও প্রচারের অভাবে এ সম্ভাবনা এতদিন পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।
নতুন কমিটির দায়িত্ব হবে পর্যটন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, আন্তর্জাতিক মানের নীতিমালা প্রণয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটন খাতে সঠিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় সম্ভব হবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বড় সমস্যা হলো দুর্বল অবকাঠামো, অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারের অভাব। কক্সবাজার, বান্দরবান বা সিলেটের মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলোতেও এখনো পর্যাপ্ত মানসম্মত হোটেল, নিরাপদ পরিবহন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা তথ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে। ফলে বিদেশি পর্যটকদের আস্থা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার আশা করছে, নতুন কমিটির মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নেপাল কিংবা শ্রীলঙ্কা নিজেদের পর্যটন ব্র্যান্ড বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছে। বাংলাদেশও যদি কার্যকর ব্র্যান্ডিং, নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হওয়া অসম্ভব নয়।
সরকারের এই উদ্যোগকে অনেকেই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কারণ পর্যটন খাত শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথই নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি, পরিবহন, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাকেও শক্তিশালী করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।