একটা শব্দ দিয়ে শুরু করা যাক Strategic Autonomy।
অর্থাৎ, কোনো একটি শক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে, নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা।
এই নীতিকেই ভারত নিজের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে। দিল্লি একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক গভীর করেছে।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের রয়েছে LEMOA, COMCASA ও BECA-এর মতো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামো। রাশিয়ার সঙ্গে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামরিক-প্রযুক্তিগত সম্পর্ক। ফ্রান্সের সঙ্গে গভীর প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব। জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও বাড়ছে সামরিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা।অর্থাৎ ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে।এটা ভারতের অধিকার।
কিন্তু প্রশ্ন হলো
ভারত যদি নিজের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ একই কাজ করতে চাইলে এত উদ্বেগ কেন?
ভারত যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে, তখন কোনো প্রতিবেশী দেশের অনুমতি কিংবা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে?? রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক গভীর করার আগে কি ঢাকার সম্মতি প্রয়োজন হয়েছিল?ফ্রান্স, জাপান কিংবা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর সময় বাংলাদেশ কী ভাবছে সেটা কি জানতে চাওয়া হয়েছিল?অবশ্যই না।কারণ ভারত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তার পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত ভারতই নেবে।ঠিক একই অধিকার বাংলাদেশেরও রয়েছে।বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক তৈরি হবে সেটিও বাংলাদেশই সিদ্ধান্ত নেবে।
আর একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার,বহুমুখী সম্পর্ক মানেই কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়।বিশ্বের বহু দেশ নিজেদের স্বার্থে একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে। কারণ অর্থনৈতিক অংশীদার এক দেশ হতে পারে, প্রতিরক্ষা সহযোগী আরেক দেশ, আর প্রযুক্তিগত অংশীদার হতে পারে তৃতীয় কোনো দেশ।বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শনও হলো“সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।”এর অর্থ হলো, কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভর করে থাকা নয়। বরং জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপ, তুরস্ক, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা।
ভারত যদি বলতে পারে“আমরা এটা করছি ভারতের স্বার্থে,”বাংলাদেশ কেন বলতে পারবে না“আমরা এটা করছি বাংলাদেশের স্বার্থে”?
বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য নয়,ভারতের এই সহজ কথাটা বুঝতে হবে,বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।
তাই বাংলাদেশের সঙ্গে কে বন্ধুত্ব করবে, কার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হবে, কিংবা কার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে উঠবেসেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশেরই।
ভারতের Strategic Autonomy যদি বৈধ হয়, তাহলে বাংলাদেশের Strategic Choice নিয়েও আপত্তির কারণ নেই।
বিষয়টা আসলে খুবই সহজ,ভারতের জাতীয় স্বার্থ যেমন ভারতের সিদ্ধান্তে,বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সিদ্ধান্তও বাংলাদেশেরই