জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পারস্পরিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সমঝোতাভিত্তিক বৈশ্বিক সমাজ গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এমন একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার মূল চালিকাশক্তি হতে হবে জাতিসংঘ। এই শান্তি আলোচনার সূত্র ধরেই তিনি রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে বিশ্বমঞ্চে উত্থাপন করেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে এ বক্তব্য দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।
তাঁর ভাষ্যে, ‘বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য জোরালো ও কার্যকর সমর্থন চান। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তার সরকারের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, ফিলিস্তিন প্রশ্ন এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরে বলেন, প্রায় ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসায় দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
তিনি তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য জোরালো ও কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করেন। প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে এটি বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
ভাষণের শুরুতে সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, ‘‘দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এখন ফ্যাসিবাদমুক্ত এবং চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে’’।
ভাষণে তিনি তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অতীতে জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেয়ার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণও করেন।