পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নে দলমত ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।
বৃহস্পতিবার বান্দরবানের সীমান্তঘেঁষা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় তার প্রথম সরকারি সফর উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী এ সফরে তিনি উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ধর্মীয় প্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নাইক্ষ্যংছড়ির সার্বিক অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার জননিরাপত্তা রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং টেকসই অবকাঠামো গঠনে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইস্পাতকঠিন সমন্বয় থাকতে হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা জরুরি। সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো উন্নয়নের সুফল প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। আর এতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা আবশ্যক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় পার্বত্য মন্ত্রী সীমান্ত নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চোরাচালান দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। সভায় ১১ বিজিবি (নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন)-এর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুল করিমসহ অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের কাচারি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যচাষীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশনা দেন। এছাড়া স্থানীয় একটি বৌদ্ধবিহারে ধর্মীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়কালে পাহাড়ে ধর্মীয় সহাবস্থান জোরদারের তাগিদ দেন তিনি।
পরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা রেস্ট হাউস প্রাঙ্গণে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় প্রতিনিধিগণ যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও সীমান্ত নিরাপত্তার সার্বিক চিত্র তুলে ধরলে তিনি তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দেন।