প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম বলেছেন, সঠিক তথ্যপ্রবাহ এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বহুমাত্রিক কার্যক্রম জনগণের কাছে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা সেনানিবাসে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পরিদর্শনকালে এ মন্তব্য করেন। এসময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় আইএসপিআর পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে পরিদপ্তরের কার্যক্রম, দায়িত্ব, গণমাধ্যম সমন্বয়, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরার চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি আইএসপিআর-এর সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও তথ্য প্রদান করেন।
পরিদর্শনের সময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পরিদপ্তরের বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন, দৈনন্দিন কার্যপ্রণালি, সংবাদ প্রস্তুতি ও প্রচার প্রক্রিয়া, তথ্য যাচাই ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আইএসপিআরকে আরও গবেষণা নির্ভর, সময়োপযোগী ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম বলেন, সশস্ত্র বাহিনী স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শান্তিকালীন, দুর্যোগ ও সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও জনগণের পাশে থাকে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও মানবিক ভূমিকা দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে সীমিত প্রচার ও জনসম্পৃক্ততার অভাবে জনগণ সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমের সঠিক ধারণা পান না। তাই আইএসপিআরকে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্যনির্ভর ও গ্রহণযোগ্যভাবে বাহিনীর পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তুলে ধরতে হবে।
পরিদর্শনের শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইএসপিআরকে গবেষণা, তথ্য সংরক্ষণ, গণমাধ্যম সমন্বয়, ডিজিটাল যোগাযোগ, প্রকাশনা ও জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেন। এছাড়া তিনি পরিদপ্তরের মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ডের যথাযথ উপস্থাপনার জন্য সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।