সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাতজন দস্যু ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হয়।
জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম জানান, ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযানের ফলে বনদস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
সুমন হাওলাদার বলেন, “আগের বছরও ২০১৮ সালে এক বছর ডাকাতির পর আত্মসমর্পণ করি। এরপর ব্যবসা করছিলাম। কিন্তু বাধ্য হয়ে আবার ডাকাতিতে নামতে হয়েছিল। এবার সুযোগ পেয়ে আত্মসমর্পণ করেছি। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমাদের মামলাগুলো সহজ করার অনুরোধ রয়েছে, যাতে আমরা সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারি।”
সাইদসহ অন্য সহযোগীরা জানান, প্রশাসনের ভয়ে সারাক্ষণ জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হতো। কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে আত্মসমর্পণের সুযোগ পেয়ে তারা শান্তিতে জীবন কাটাতে পারবে।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪) রয়েছেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সরকার ও প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় বনদস্যুদের দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে।
অভিযানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৭৮ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গুলি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এ সময় জিম্মি থাকা ২০ জনকে উদ্ধার করে পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে।