ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় লালমনিরহাটে খরস্রোতা তিস্তা নদী ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। তিস্তা তীরবর্তী ও আশপাশের এলাকায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট, সংরক্ষিত এলাকায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। পানি বাড়িতে ঢুকে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষ।
সোমবার বিকাল থেকে বাড়তে শুরু করে তিস্তার পানি। সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার তিন সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিন ঘণ্টা পর রাত ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারত থেকে দ্রুত গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে আসায় লাখো মানুষ পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিস্তার প্রবল স্রোত সামাল দিতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েও পানি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ।
নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে, ডুবে গেছে চাষাবাদকৃত ফসলের ক্ষেত। বিশেষ করে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ এলাকার বাসিন্দা কফিল উদ্দিন জানান, নদীপাড়ের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন। ভারত থেকে প্রচণ্ড গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে আসায় যেকোনো সময় ঘরবাড়ি তিস্তার পানিতে ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় অনেকে ঘরবাড়ি ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারেজ খরা মৌসুমে বন্ধ রাখা হলেও, বর্ষায় থেমে থেমে পানি ছাড়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সোমবার সন্ধ্যায় গজলডোবা ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ার খবরের পর থেকেই পানি দ্রুত বাংলাদেশের দিকে আসতে শুরু করে।
তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, উজান থেকে প্রবল গতিতে পানি আসছে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তাপাড়ের মানুষদের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন, কেউ কেউ ভেলা বানিয়ে খুঁজছেন নিরাপদ আশ্রয়।
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, রাত ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা এলাকায় মাইকিং করে গ্রামবাসীকে সতর্ক করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে।