মানবস্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য ক্ষতিকর ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্ট, ই-সিগারেট এবং নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (১৭ আগস্ট) এ রুল জারি করেন।
রুলে ক্ষতিকর এসব তামাকপণ্য নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্ট এবং নিকোটিন পাউচ বাজার থেকে অপসারণ ও নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
বাদীপক্ষের আবেদনে বলা হয়, ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এসব পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি স্বীকৃতি দিয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষতিকর এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণ, বাজার থেকে অপসারণ অথবা নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তির প্রতিশ্রুতিরও ব্যত্যয় বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ‘Voyage of Discovery’ মামলার ধারাবাহিকতায় সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ তামাক শিল্প বা বিড়ি কারখানা স্থাপনে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি সীমিত করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিদ্যমান তামাক ও বিড়ি কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট ও যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে তামাকজাত পণ্য উৎপাদন থেকে সরে এসে অন্য শিল্পে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের ওই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মামলার বাদী এ কে এম মাকসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ, হেলাল আহমেদ ও মো. আমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তামাক প্রতিরোধে কাজ করছেন। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।
আদালতে বাদীপক্ষের হয়ে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। শুনানিতে তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং ক্ষতিকর ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্ট নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়গুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন।