সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের পাশাপাশি অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রোববার সাভারে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাসদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা বা ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জনকারী সাতটি ইউনিটকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পতাকা কেবল একটি প্রতীক নয়; বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। জাতীয় পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রাখা প্রত্যেক সেনাসদস্যের পবিত্র দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে সেনাসদস্যদের সাহসী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের ওপর নির্ভর করে না। শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থাই এর প্রকৃত শক্তি। এ ক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ডের গুরুত্বও অপরিসীম।
তিনি আরও জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিও সময়োপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলাও জরুরি।
তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।
সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন সেনাসদস্যদের কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সেনাসদস্যদের কল্যাণে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নও প্রক্রিয়াধীন: প্রধানমন্ত্রী
8