জামালপুর সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় ১১ বছর পর স্বামী জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া (৩৫) জামালপুর সদর উপজেলার দড়িমোহনপুর এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকার উম্মে কুলছুমের মেয়ে তমা খাতুনের সঙ্গে জনি মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কনের পরিবার পাঁচ হাজার টাকার হাঁড়িপাতিল ও কাপড়চোপড় দেয়।
বিয়ের কয়েক মাস পর অটোরিকশা কেনার জন্য শ্বশুরবাড়ির কাছে আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন জনি। দরিদ্র পরিবারটি ওই টাকা দিতে না পারায় তমার ওপর নির্যাতন শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা উম্মে কুলছুম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।