জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় কম্বল, মদ, কয়লা, চিনি, সাবান এবং দেশীয় রসুনসহ ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন ৩১।
নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী আজ সকালে বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং যে কোনো ধরনের চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা নির্মূলে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)।
এরই ধারাবাহিকতায়, সীমান্ত এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন ও নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে গত ২৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী স্থানে সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ব্যাটালিয়নের অধীন পাঁচগাঁও, বিজয়পুর এবং ভবানীপুর বিওপির চৌকস টহল দল স্থানীয় দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এই অভিযানগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করে। অভিযান চলাকালে সীমান্ত পিলার ১১৮১/৫-এস, ১১৮১/৬-এস, ১১৫১ এমপি, ১১৫২ এমপি এবং ১১৫৩ এমপি’র কাছাকাছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বিজিবি জানায়, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে মোট ৪১ পিস ভারতীয় কম্বল, ৭২ বোতল ভারতীয় মদ, ১৭ হাজার ৯০০ কেজি ভারতীয় কয়লা, ২০০ কেজি চিনি, ৮০০ পিস সাবান এবং ৩৬০ কেজি বাংলাদেশী রসুন। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে এসব মালামাল দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় বিজিবির টহল দল উপস্থিতি টের পায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বুঝতে পেরে চোরাচালানি চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব পণ্য জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের সর্বমোট জব্দমূল্য ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় জননিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সীমান্তে যে কোনো ধরনের অবৈধ পণ্য পারাপার ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও জাতীয় স্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, জব্দকৃত চোরাই পণ্যের আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে বিজিবি কাজ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে উদ্ধারকৃত ভারতীয় মদ নিয়ম অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে এবং অন্যান্য চোরাই পণ্যসমূহ (কম্বল, কয়লা, চিনি, সাবান ও রসুন) নেত্রকোণা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর এসব মালামাল বিধি মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য হস্তান্তর করা হবে।