বাংলাদেশকে আগামী এক দশকের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার, যা অর্থনীতির অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের লক্ষ্য অর্জনে সরকার একটি বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি এবং স্পোর্টস অর্থনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু একটি খাতে নয়, বরং অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। উৎপাদন, রপ্তানি, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রবাস আয়, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব কমাতে উৎপাদনশিল্প, নির্মাণখাত, সেবা খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে কাজের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর ফলে পারিবারিক আয় বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণ সহজ করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সহজ অর্থায়ন, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান এবং বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন আয়ের উৎস তৈরি হবে।
রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করতে প্রণোদনা, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রবাস আয় বৃদ্ধির জন্য বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসারে কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি জানান, এসব উদ্যোগের কিছু অংশ ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং বাকি পরিকল্পনাগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে মানুষের আয় বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতিতে পরিণত হবে।