জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার মিল্টন ডিকের নেতৃত্বে সংসদীয় প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকার তদানীন্তন বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সংসদীয় সম্পর্কের মাধ্যমে শুধু সরকারের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক শক্তিশালী নয়; বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের জনযোগাযোগও বৃদ্ধি পাবে।
স্পিকার আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একটি প্রাণবন্ত সংসদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে।
মিল্টন ডিক বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া সরকার সবসময় পাশে থাকবে। এ সময় তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারকরণ, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতাসহ সংসদীয় গণতন্ত্রে নারীর ক্ষমতায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, স্পিকারের আমন্ত্রণে পরবর্তীতে মিল্টন ডিক ও তার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন এবং সংসদীয় কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, তাহসিনা রুশদী ও এম নাসের রহমান অস্ট্রেলিয়ান প্রতিনিধিদলের সাথে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
মিল্টন ডিকের নেতৃত্বে সাক্ষাতে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সুজান রাইল, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেন্টিভসের ডেপুটি স্পিকার শ্যারন ক্লেডন, লেবার পার্টির বাসেম আব্দো, নিউ সাউথ ওয়েলসের সিনেটর ডেবোরা ও নেইল, সাউথ অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টির সিনেটর অ্যান্ড্রু ম্যাকলাহান সিএসসি, তাসমানিয়ার স্বতন্ত্র সিনেটর টামি টাইরেল, চিফ অব স্টাফ শ্যানন থ্রেলফল ক্লার্ক, প্রতিনিধি সচিব ড. জেন থমসন, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) হ্যারি থমসন, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আসিফ কাশেম, বৈদেশিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য বিভাগের পলিসি কর্মকর্তা ব্লেইক রেইলি, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট এবং মিডিয়া ম্যানেজার তামান্না রীতি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।