দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শ্রমজীবী, কৃষক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কল্যাণে ইশতেহারে আলাদা পরিকল্পনা রাখা হয়েছে, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ উপকৃত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে “কৃষক কার্ড” কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক নারী পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে “ফ্যামিলি কার্ড” চালুর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা কৃষি ও গ্রামীণ জীবিকা উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা পরিবেশের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও অবদান রাখবে।
ধর্মীয় খাতে সহায়তার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের সহায়তা অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুদের জন্যও বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে “ক্রীড়া কার্ড” চালুর মাধ্যমে তরুণ ক্রীড়াবিদদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার গঠনে সুবিধা পান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের উন্নয়নকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর মধ্যে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ধীরে ধীরে জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছে।
এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় এবং দিনের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।