প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, এটি একটি অপরাধ। অনেক সময় মানুষ বিষয়টি উপলব্ধি না করেই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।
শনিবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য: কে শিকার? কে শিকারি?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, ফেক নিউজ মোকাবিলায় আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সমালোচনা, মতভিন্নতা বা গালি আর ভুয়া সংবাদ এক বিষয় নয়। তাই ফেক নিউজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান থাকা দরকার।
সেমিনারে ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রেখেই দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। এজন্য ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যালগরিদম সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি।
মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ভাষা-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মামুন অর রশীদ বলেন, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে পেশাদার ফ্যাক্টচেকার ও ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, অপতথ্য এখন শুধু সামাজিক বিভ্রান্তির কারণ নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ভুল তথ্য প্রকাশের পর সংশোধন বা প্রত্যাহারে গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতাও আরও বাড়াতে হবে।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম মানুষের চিন্তা ও পছন্দকে প্রভাবিত করছে। ফলে সত্য যাচাইয়ের বদলে মানুষ অনেক সময় নিজের মতের পক্ষে থাকা তথ্যকেই গ্রহণ করছে।
সেমিনারে বক্তারা গুজব ও অপতথ্য রোধে আইন, ফ্যাক্টচেকিং, গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।