ঢাকা, ১০ মে ২০২৬: হাওরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে সরকার।
সিলেট সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০৩০ সাল পর্যন্ত হাওরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
ড. তিতুমীর বলেন, অপরিকল্পিত বাঁধ, নদী দখল, পলি জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, কীটনাশকের অপব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাওরাঞ্চলের সংকট গভীর হয়েছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা করছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মানবিক সহায়তা শুরু হয়েছে। তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোকে তিন মাস সহায়তা দেওয়া হবে।
হাওরের দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় নদী ও খাল খনন, পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা, জলমগ্ন সড়ক নির্মাণ, সবুজ বেষ্টনী, হাওর উপযোগী ধানের জাত উদ্ভাবন এবং কৃষিযন্ত্র সরবরাহকে একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে দেশীয় মাছ, মৌমাছি ও পরিযায়ী পাখির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায়ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ড. তিতুমীর জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব কৃষককে এ কার্ডের আওতায় আনা হবে, যার মাধ্যমে বীজ, সার, কীটনাশকসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া সহজ হবে।