আগামী পাঁচ বছরে দেশের আইসিটি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, টিআরএনবি আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতকে আধুনিক, বিনিয়োগবান্ধব এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী করতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং ডিজিটাল সুবিধা যেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছায়, সে লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ চলছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন, টেলিকম অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৫জি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি এবং ক্লাউডভিত্তিক সেবার প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে টেলিকম খাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে গ্রাহকবান্ধব সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিজিটাল সেবা বিস্তারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
টেলিকম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ৫জি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা গ্রামীণ পর্যায়েও পৌঁছে দিতে কাজ করছে। পাশাপাশি এই খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ভবিষ্যতে দেশের জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ১০ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন, ৫জি, ডাটা সেন্টার, এআই এবং সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সঠিক নীতি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে প্রযুক্তিখাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
গোলটেবিল আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত এমদাদ উল বারী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম।