নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুস সামাদের বাড়ি থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ৯৯ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ইমানআলী বাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
আবদুস সামাদ চরজব্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের সভাপতি। তার দাবি, চালগুলো লক্ষ্মীপুরের তিনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে তার ভাই কিনেছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে সরকারি চাল মজুদ করে রাখা হচ্ছিল। পরে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব চাল সংরক্ষণ করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুস সামাদ বলেন, তার ছোট ভাই ডাক্তার আজগর একজন ডিলার। নূরানি মাদরাসার জন্য সরকারি বরাদ্দের চাল বৈধভাবে ক্রয় করে বাড়িতে রাখা হয়েছিল।
চরজব্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাউছার আহম্মেদ বলেন, জামায়াত নেতার বাড়িতে মোট ৯৯ বস্তা চাল ছিল। এর মধ্যে চার বস্তা চাল বাড়ির লোকজন খুলে ফেলায় সেগুলো বাদ দিয়ে বাকি ৯৫ বস্তা চাল জব্দ করে পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। ইউএনওর নির্দেশ পেয়ে তিনি চালগুলো পরিষদের কার্যালয়ে নিয়ে যান। আবদুস সামাদকে এ চালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওছমান বলেন, জব্দ করা চালগুলো লক্ষ্মীপুরের রামগতির তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে বাড়ির মালিক দাবি করেছেন। কিন্তু সরকারি চাল এভাবে বাড়িতে লুকিয়ে রাখা কিংবা কেনাবেচার কোনো সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চালগুলো ওই বাড়িতে রাখা হয়েছে। এরপরও তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে চাল উদ্ধার করা হয়েছে। চাল কেনার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চরজব্বার ইউনিয়ন শাখার পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মুজাহিদুল আহমেদ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ডা. আবদুস সামাদ বলেন, লক্ষ্মীপুরের রামগতির পোড়াগাছা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি মাদরাসার জন্য বরাদ্দকৃত চাল বৈধ প্রক্রিয়ায় ক্রয় করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র ও রশিদ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।