জলাবদ্ধতা দূর করে চট্টগ্রামবাসীর দুর্ভোগ কমানোকে এই মুহূর্তে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অতীতে প্রকল্প নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এখন সরকার চেষ্টা করছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বা লুটপাট হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা হবে। এর সঙ্গে কারা জড়িত, তাও খুঁজে বের করা হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ এ বছরই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বেশ কিছু কাজ করেছে, যার সুফল সামনে পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোথায় কী সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিছু জায়গায় সরকারি জমিতে স্থাপনা থাকায় তা সরাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ, খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ চলছে।
চট্টগ্রামের ছোট-বড় ১৩০টি খালকে প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কত বৃষ্টি হলে কত পানি জমবে, কীভাবে তা খাল দিয়ে সাগরে যাবে, জোয়ার-ভাটার প্রভাব কী হবে এবং স্লুইসগেট কীভাবে পরিচালিত হবে, এসব বিষয় হিসাব করেই কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমের কারণে কিছু অসমাপ্ত কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বর্ষা শেষে প্রকল্পগুলোর বাকি কাজ পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করা হবে। কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না। তবে অতিবৃষ্টির কারণে স্বল্প সময়ের জন্য জলজট হতে পারে।
আগে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রামের মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
পরিদর্শনকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. নুরুল করিম এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।
পরে অর্থমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালসহ নগরের আরও কয়েকটি খালে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন।