সরকার ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ১২টি বেসরকারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এসব প্রকল্পে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট ৭.৮০ সেন্ট বা প্রায় ৯ টাকা ১২ পয়সা, যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই সেন্ট কম।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। নতুন প্রকল্পগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট, পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াট এবং কক্সবাজার ও মোংলায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রগুলো ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন সক্ষমতা রাখবে।
কর্মকর্তারা জানান, ১২টি আইপিপি চুক্তির পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পও বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ১,৪৫০ মেগাওয়াট, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ।
বিপিডিবি চেয়ারম্যান আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং পূর্বের অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করলে ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ ২৩-২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে।