অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে না এবং পরিবেশগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়—এমন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আর এগিয়ে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে সরকার।
সম্প্রতি নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারের অগ্রাধিকার, নির্বাচনী ইশতেহার এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকা প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অন্তর্ভুক্ত প্রায় ১৩০০ প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে কোনগুলো বাস্তব অর্থনৈতিক উপকারে আসবে, আর কোনগুলো শুধু ব্যয় বাড়ায়—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কিছু প্রকল্পে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি থাকলেও নতুন করে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি কম, সেগুলো বাতিল বা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা বেশি।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কিছু কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- অর্থনৈতিক লাভজনকতা
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি
- পরিবেশগত গ্রহণযোগ্যতা
- দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন সম্ভাবনা
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে অনেক প্রকল্প প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার ছাড়াই নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর কিছুতে অদক্ষতা ও অপচয়ের অভিযোগও রয়েছে। তাই এখন থেকে প্রতিটি প্রকল্প গভীরভাবে যাচাই করা হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অলাভজনক প্রকল্প বাদ দেওয়ার উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও চলমান বড় প্রকল্প হঠাৎ বন্ধ না করে পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্বিন্যাস করাই বেশি যুক্তিযুক্ত হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও অপচয় কমানোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান এডিপির আওতায় থাকা হাজারেরও বেশি প্রকল্পের মধ্যে যেগুলো জনকল্যাণে কার্যকর নয়, সেগুলো ধাপে ধাপে বাদ দেওয়া বা পুনর্গঠনের মাধ্যমে উন্নয়ন অগ্রাধিকার নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা চলছে।