বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০ লাখ ইউরো আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ফিনল্যান্ড। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে তহবিল সংকট মোকাবিলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই অর্থায়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে চলমান জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখা, সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে, যাদের অধিকাংশই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সীমিত কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগের কারণে অনেক পরিবার মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। ফলে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আশ্রয় নেওয়া নতুন শরণার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, বৈশ্বিক অর্থায়ন কমে যাওয়ার এই সময়ে ফিনল্যান্ডের সহায়তা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
ফিনল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি সহায়তার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এই সংকটের দিকে অব্যাহত রাখা জরুরি।
সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬ সালের যৌথ মানবিক সাড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে সহায়তা দিতে ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই ফিনল্যান্ডের নতুন অর্থ সহায়তা মানবিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে ইউএনএইচসিআর।
সংস্থাটি বলেছে, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা, অংশীদারিত্ব ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।