দেশে সহনশীল ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সব রাজনৈতিক দল যেন স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি।
বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদরের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের জনগণ বিএনপির প্রতি যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, তা ধরে রাখা এখন দলের নেতাকর্মীদের অন্যতম বড় দায়িত্ব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং মানুষের পাশে থেকে কাজ করার মাধ্যমেই সেই আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতের রাজনৈতিক ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো দল বাধাগ্রস্ত হবে না এবং জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন করার সুযোগ পাবে। কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদকে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আচরণ ও কর্মকাণ্ডে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কারণ বিএনপি সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত।
ভূল্লী অঞ্চলের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি তিনি এলাকার প্রয়াত ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এ অঞ্চলের বহু মানুষ দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা ধরনের নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবে জনগণের সমর্থন ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার শক্তির কাছে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা টিকে থাকতে পারেনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তরুণদের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে দেশের তরুণরা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।
অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভবিষ্যতে ঠাকুরগাঁওয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে। তবে তার আগে কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ এ অঞ্চলের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি।
পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান।
এর আগে তিনি ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।