দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে আরও কার্যকর, শক্তিশালী ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে নতুন কমিশন গঠন এবং আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দুদকের ক্ষমতা ও কার্যপরিধি সম্প্রসারণে একটি সংশোধিত আইনের খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নতুন কমিশন গঠনের জন্য একটি সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এ উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতির কাছে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতির নাম মনোনয়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইন অনুসারে গঠিত সার্চ কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি ছাড়াও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সদস্য হিসেবে থাকবেন।
এই কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে ছয়জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি ওই তালিকা থেকে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করার পর থেকে কমিশন পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে নতুন কমিশন গঠনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৪’-এর খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কমিশনকে ছদ্মবেশে অনুসন্ধান পরিচালনা, সন্দেহভাজন সম্পদ জব্দ, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিতসহ আরও বিস্তৃত তদন্ত ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতারণা, জালিয়াতি, মানিলন্ডারিং, শেয়ারবাজারে কারসাজি এবং সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যাংক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংঘটিত নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক অপরাধকে দুদকের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। তদন্ত ও মামলা পরিচালনা প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল নিয়োগ এবং আচরণবিধিতেও পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।
খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কমিশনের অধীন অপরাধগুলো আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য প্রদান বা তদন্তে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সার্চ কমিটি গঠনের কাজ শেষ হওয়ার পাশাপাশি আইন সংশোধনের খসড়াও চূড়ান্ত পর্যালোচনায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নতুন কমিশন গঠন এবং আইনি সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে দুদকের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।