অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে গণমাধ্যমের রেফারেন্স টেনে এ মন্তব্য বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যমুনার অন্দরে আর কিনারে হওয়া ভয়াবহ দুর্নীতির তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, টিআইবি কয়েকদিন আগে একটা রিপোর্ট করেছে ‘সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে’ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। এসব কথা আমি বলছি না গণমাধ্যম বলেছে। এই একটা অস্থির সময় পার করে আমাদের নির্বাচন আদায় করতে হয়েছে। হ্যাঁ এজন্য নির্বাচন ও জাতীয় স্বার্থে জুলাই সনদে আমরা সই করেছি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবে এক ধরনের লুটেরা অর্থনীতি ও ক্রনি ক্যাপিটালিজম গড়ে উঠেছিল। সেই সময়কালে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং গত ১৫ বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে লোন স্ক্যাম, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দখল এবং মেগাপ্রজেক্টের নামে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিল আইনি মোড়কে দুর্নীতি বা লেজিসলেটিভ ম্যানিপুলেটেড করাপশন, যার মাধ্যমে কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোকে ইনডেমনিটি দিয়ে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছিল।’ পাশাপাশি আদম ব্যবসার মাধ্যমে ১৩ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ৭৩ শতাংশ বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় অপাত্রে দেওয়ার খতিয়ানও তিনি তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আমলের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের গত ১৮ মাসের চরম অস্থির সময় পার করে সরকার ৯ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে। বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থার পতন ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। যমুনার অভ্যন্তরে ও কিনারে মিলিয়ে যে বহুমুখী সংকট ছিল, সেই অস্থির সময়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই জুলাই সনদে সমঝোতার মাধ্যমে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে বর্তমান নেতৃত্ব সবসময় সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদাসল ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এবারের বাজেটকে ‘এ বাজেট অফ নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ আখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পুরাতন ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে ফরাসি অর্থনীতিবিদ ফ্রেডরিক বাস্টিয়া কিংবা ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোনের জনকল্যাণমুখী দর্শনের আলোকে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। টেকনাফের সীমান্তের একজন অসহায় বিধবা মহিলাও যেন এই বাজেটের সুফল পান, সেই লক্ষ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কোনো ধরনের ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। ফলে এবার বাজেট দেওয়ার আগে পরে কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে মিল রেখে এই বাজেটে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ পাঁচটি মূল ভিত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
এসময় সবার সহায়তায় এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।