আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও শহরের ওয়ার্ডে ‘প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট’ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
একই সঙ্গে দেশের সব নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৮ জুন) ‘ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’-এর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গোপালগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় ‘ভিটামিন এ খাওয়ান, শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, দেশে বিদ্যমান চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রতিরোধভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবায় ১০০ টাকা ব্যয় হলে এর মধ্যে ৭৩ থেকে ৭৯ টাকা রোগীকেই নিজের পকেট থেকে দিতে হয়। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ লাখ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ইউনিটগুলোর কাঠামো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, প্রতিটি ইউনিটে অন্তত দুজন ডিপ্লোমা চিকিৎসক, দুজন নার্স, দুজন ধাত্রী, একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান থাকবেন।
নতুন রেফারেল ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকবে। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্ভব না হলে ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে রোগীকে উপযুক্ত হাসপাতালে পাঠানো হবে। এর ফলে রোগীদের অযথা বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে হবে না এবং প্রতারণার ঝুঁকিও কমবে।
এ ছাড়া দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে বলেও জানান তিনি।
ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে অতিরিক্ত ২৫ হাজার ধাত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।