জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা—আইএলওর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের মন্ত্রী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন বাংলাদেশের শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার জাতিসংঘ দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের আয়োজন করে জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন।
১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আরব, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৪৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে প্রায় ১৫ জন মন্ত্রীসহ শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আইএলওর মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সহকারী মহাপরিচালকরাও বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে আইএলওর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ—এএসপিএজি-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছে। সেই প্রেক্ষাপটে বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ বক্তব্য দেন শ্রম সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এএসপিএজি আইএলওর অন্যতম বৈচিত্র্যময় আঞ্চলিক গ্রুপ। বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাঠামো, উন্নয়ন পর্যায়, সংস্কৃতি ও শ্রমবাজার বাস্তবতার দেশগুলো এই প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করছে। ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সামাজিক ন্যায়বিচার, শোভন কর্মপরিবেশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।
তিনি বৈশ্বিক শ্রম শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈচিত্র্য বৈশ্বিক শ্রমনীতি, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান বিষয়ক আলোচনায় একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে। তিনি “Connecting Diversity, Advancing Unity” প্রতিপাদ্যের আলোকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
শ্রম সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ভবিষ্যতের কর্মজগত গড়ে উঠবে আজকের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের ভিত্তিতে। সামাজিক ন্যায়বিচার ও শোভন কাজের প্রসারে এএসপিএজি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শ্রমশক্তির প্রতিনিধিত্বকারী এএসপিএজি আইএলওর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক গ্রুপ। গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ এই গ্রুপের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভিন্ন অগ্রাধিকার এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।