ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের উত্তরের চার জেলা—নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নেত্রকোনার কামলাকান্দা, সিলেটের কানাইঘাট ও ফেঞ্জুগঞ্জ এবং বাগেরহাটের মোংলা এলাকায়ও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
রবিবার (২১ জুন) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে উত্তরের চার জেলায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এবং পরিস্থিতি প্রায় পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন্দ্রের বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল বেড়েছে এবং আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে নদীগুলোর পানি কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এসব নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বা সাময়িক প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট ও খুলনা বিভাগসহ ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে সতর্কবার্তা মেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্র।