কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর প্রচার হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনাকল্পনা। অবশ্য সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনীতিতে একজন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ইমেজের মানুষ তিনি। তার পরেই আলোচনায় রয়েছেন দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা নিয়ে নির্বাচনের আগে দেশে ফেরেন। তৃতীয় নামটি হচ্ছে সাবেক মন্ত্রী ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি। এ ছাড়াও গুঞ্জন আছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের নাম। তিনিও শারীরিকভাবে অনেকটাই অসুস্থ।
অবশ্য এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান ২২তম রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এবার আর আমলা কিংবা অরাজনৈতিক কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বানানোর মতো ভুল সিদ্ধান্ত নেবে না বিএনপি। বিশেষ করে আগেরবার প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহাম্মেদকে রাষ্ট্রপতি বানিয়ে যে ভুল হয়েছিল, বিএনপিকে তার মাশুল দিতে হয়েছে প্রায় দেড় যুগ। প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহাম্মেদের মতো অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বানিয়ে ‘ওয়ান-ইলেভেন’-এর পর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ‘এটি ছিল একটি বড় ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে অকপটে স্বীকার করেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দলের মহাসচিব পদে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নিযুক্ত করাসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানা যায়। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির নাম বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতারা বলছেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে সবখানে। বিএনপির ভিতর থেকেই কাউকে বেছে নেওয়া হবে, নাকি দলনিরপেক্ষ কাউকে করা হবে, তা নিয়ে দলটির ভিতরে-বাইরে নানা হিসাবনিকাশ চলছে। বিএনপিতেই রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো ক্যারিয়ারসম্পন্ন যোগ্য প্রার্থী আছেন। হয়তো তাঁদের মধ্য থেকেই বাছাই করা হতে পারে। আর দলের বাইরে থেকে পেশাজীবী বা আমলাদের কাউকে আনার সম্ভাবনা নেই। যোগাযোগ করলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ) শূন্যপদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’ বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা এ নিয়ে বঙ্গভবনের সামনে গিয়ে আন্দোলন করে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক সংকটের কারণে তাঁকে সরাতে রাজি হয়নি। তা ছাড়া দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপিও তখন এ বিষয়ে সায় দেয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই দাবি স্তিমিত হয়ে যায়। এখন আবারও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা জোরালো হয়েছে।