প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর রাজধানীর বাসাবাড়ি, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে থাকা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনেও ফিরতে শুরু করেছে স্বাভাবিকতা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল রাত থেকেই গ্যাসের চাপ বাড়তে শুরু করে। আজ সকাল থেকে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। ফলে অনেক বাসাবাড়িতে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও কমেছে দীর্ঘ অপেক্ষার সারি।
যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালীর একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, গ্যাস নেওয়ার জন্য আগের তুলনায় খুব কম সংখ্যক যানবাহন অপেক্ষা করছে। স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকদিন আগেও যেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, বর্তমানে গ্যাসের চাপ বাড়ায় দ্রুত গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
একজন সিএনজি চালক জানান, আগে ২০০ টাকার গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ করতেও ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগত। বর্তমানে অপেক্ষার সময় ও গ্যাস নেওয়ার সময়—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসের চাপ বাড়ায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে যানবাহনের চাপও কমেছে। ফলে চালকদের আগের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না।
গ্যাস সরবরাহের উন্নতির প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতেও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর তারা স্বাভাবিক চাপের গ্যাসে রান্না করতে পারছেন। আগে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক পরিবারকে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করতে হতো কিংবা বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হতো।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি এলএনজি আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।
সিএনজি ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসের চাপের এই উন্নতি অব্যাহত থাকলে রাজধানীর পরিবহন খাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও আরও স্বস্তি ফিরবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।