চট্টগ্রাম নগরীর খালগুলোতে নির্মাণকাজের জন্য দেওয়া সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে এবং পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট মো. মহসিনুল হক চৌধুরী।
বুধবার বিকেলে ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, খালের দুপাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে কাজ করতে হয়। তবে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে প্রবর্তক মোড়সহ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে যায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় হিজড়া খালের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সব অস্থায়ী বাঁধ সরিয়ে পানির চলাচলের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রবর্তক মোড়ে জমে থাকা পানি খাল পরিষ্কারের পর রাত দেড়টার মধ্যেই নেমে যায়।
জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় পুরো শহর পর্যবেক্ষণের জন্য ১৬টি কুইক রিঅ্যাকশন টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জলাবদ্ধ এলাকায় গিয়ে নালা ও খাল পরিষ্কার করবে।
বর্তমানে ২৯টি এক্সকাভেটর ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়ে বিভিন্ন খালের মাটি অপসারণের কাজ চলছে। বুধবার সকাল ৮টার মধ্যেই খালের সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানির পথ পরিষ্কার করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, চট্টগ্রাম নগরীর ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। এসব খালের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।
বাকি ২১টি খাল পরিষ্কারের কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। এ জন্য ৪৫ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব খালের জন্য আলাদা প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সেনাবাহিনীর তদারকিতে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।