যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেট জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে। আনুষ্ঠানিক এক প্রস্তাবের মাধ্যমে তাদের পেশাদারিত্ব, ত্যাগ এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে।
দ্বিদলীয় সমর্থনের ভিত্তিতে স্টেট সিনেটে সর্বসম্মতিক্রমে সিনেট রেজুলেশন ৮৩৪ গৃহীত হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট, উভয় দলের আইনপ্রণেতারা এতে সমর্থন দেন। প্রস্তাবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানকে উচ্চভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং এ স্বীকৃতির কূটনৈতিক ও নৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
এই প্রস্তাব উত্থাপন এবং পাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান। তিনি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আন্তর্জাতিক অবদান ও মানবিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে আনেন। তার এই উদ্যোগকে জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মর্যাদা বৃদ্ধির একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
রেজুলেশনে বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশে পরিচালিত ৬৩টি মিশনে ২ লাখের বেশি বাংলাদেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য অংশ নিয়েছেন। এতে তাদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং বিশ্বশান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতির পরিচয় মিলেছে।
বর্তমানে বিশ্বের আটটি সক্রিয় জাতিসংঘ মিশনে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হওয়া ১৭৪ জন এবং আহত হওয়া ২৮০ জনের বেশি শান্তিরক্ষীর আত্মত্যাগের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
জর্জিয়া স্টেট সিনেট তাদের প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই থেমে থাকেন না, বরং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা, অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সংঘাত-পরবর্তী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও জনগণ-স্তরের সম্পর্ক ক্রমেই দৃঢ় হয়েছে। পাশাপাশি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের বহুমাত্রিক অবদানও এতে স্বীকৃতি পায়।
এই রেজুলেশন গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে জর্জিয়া সিনেট বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে যারা কর্তব্য পালন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতিও সংহতি জানানো হয়েছে।
সিনেটর শেখ রহমান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজনের সময়েও উভয় দলের সমর্থনে এ ধরনের স্বীকৃতি অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার ভাষায়, এটি শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, ৩১ মার্চ জর্জিয়া স্টেট ক্যাপিটলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে এ রেজুলেশন গ্রহণ করবেন।