জাতীয় সংসদের গ্যালারিগুলোর নাম পরিবর্তন করে এখন সেগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শনকারী সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) সংসদ ভবনে নতুন নামফলক স্থাপন করা হলে বিষয়টি দৃশ্যমান হয়।
আগে এসব গ্যালারির নাম ছিল বিভিন্ন নদী ও ফুলের নামে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিটি গ্যালারি এখন সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা জাতীয় গৌরবকে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে।
নতুন নাম অনুযায়ী—
- ভিআইপি গ্যালারি ১-এর নাম রাখা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (পূর্বের নাম: পদ্মা)
- ভিআইপি গ্যালারি ২-এর নাম বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান (পূর্বের নাম: মেঘনা)
- গ্যালারি ৩-এর নাম বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ (পূর্বের নাম: শিমুল)
- গ্যালারি ৪-এর নাম বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (পূর্বের নাম: শিউলি)
- গ্যালারি ৫-এর নাম বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন (পূর্বের নাম: বকুল)
- গ্যালারি ৬-এর নাম বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ (পূর্বের নাম: শাপলা)
- গ্যালারি ৭-এর নাম বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (পূর্বের নাম: যমুনা)
এছাড়া গ্যালারি ১ ও ২ সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগে যে গ্যালারিগুলোর নাম পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বা বিভিন্ন ফুলের নামে ছিল, সেগুলো পরিবর্তন করে এখন বীরশ্রেষ্ঠদের নামে রাখা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে আরও সচেতন হয়।
তিনি আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নামে সংসদের প্রধান ফটকের নামকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অধিবেশন কক্ষে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা সংযোজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা স্থায়ীভাবে স্থান পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি নাম পরিবর্তন নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, ত্যাগ ও বীরত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।