ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা আন্দোলনে রবিবারও (১১ অক্টোবর) উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজধানী দিল্লি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট, কনট প্লেস ও যন্তর মন্তর এলাকা কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে দিল্লি পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন এদিন নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়। খবর এনডিটিভির।
রবিবার দুপুর নাগাদ দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড টপকে সামনের দিকে এগোতে শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা ও তাঁর সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ।
এর কিছুক্ষণ আগে একই এলাকা থেকে সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন বিট্টাসকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এদিন চার-পাঁচ জন একসঙ্গে জমায়েত হলেই তাঁদের আটকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের কারণে দিল্লির ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পার্লামেন্ট স্ট্রিট সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। অশোক রোড, টলস্টয় রোড ও জনপথে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কস্তুরবা গান্ধী মার্গ, মিন্টো রোড ও বন্দে মাতরম মার্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নয়াদিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সচিন শর্মা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।
রবিবার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সিজেপি প্রধান দীপক তাঁর নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সমর্থকদের ওপর যত পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন, এই আন্দোলন থামবে না।’ তিনি ১০ অক্টোবর দিনটিকে ‘একনায়কতন্ত্র শেষের শুরু’ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে দিল্লির এই পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে যা চলছে, তা দেখে মনে হচ্ছে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।’
শনিবার দিল্লিতে মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়। রবিবার বিশেষ শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছে।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র জমায়েতের ক্ষেত্রে আইন মেনেই পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না। সেই সাথে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড তুলে নেওয়া এবং ইন্টারনেট চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নেমট্যাগ ছাড়া পুলিশ মোতায়েন ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের বিষয়েও জবাব চেয়েছে আদালত। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।