ব্যক্তিগত জীবনের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রথম স্ত্রী হোয়াইদা আল-গারবাওয়িকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স দিয়েছেন মিসর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। উত্তর উপকূলের একটি পর্যটন এলাকায় তাঁর দুই স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার পরই এই সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল।
হোসামের দ্বিতীয় স্ত্রী দিনা মোস্তাফার আইনজীবী মোহাম্মদ শামস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে হোয়াইদা আল-গারবাওয়ির সঙ্গে হোসামের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের অবসান হলো। তাঁদের সংসারে আয়া, রুয়া ও ওমর নামে তিন সন্তান রয়েছে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মিসরের উত্তর উপকূলের একটি অভিজাত হোটেলের ক্যাফেতে হোসামের দুই স্ত্রী মুখোমুখি হন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ক্যাফেতে থাকা অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কয়েকজন পুলিশকে খবর দেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষে দুই পক্ষই আহত হন এবং তাঁদের শরীরে কালশিটে দাগ দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও হোসাম হাসান তাৎক্ষণিকভাবে দুই পক্ষকে শান্ত করতে পারেননি। একপর্যায়ে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিসরের ক্রীড়াঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার পর বিরোধের অবসানে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হোসাম।
হোয়াইদা আল-গারবাওয়ির সঙ্গে হোসামের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২২ সালেও তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০ দিনের বিচ্ছেদ হয়েছিল। পরে তাঁরা আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করেন। তবে এবার সাম্প্রতিক বিরোধের পর সেই সম্পর্ক স্থায়ীভাবে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিলেন হোসাম।
অন্যদিকে, ২০১৫ সালে দিনা মোস্তাফাকে বিয়ে করেন হোসাম। তিনি ‘ড্যান অ্যাডাম’ নামেও পরিচিত। মিসরের উত্তর উপকূলের মারিনায় তাঁদের পরিচয় থেকে সম্পর্কের শুরু, পরে তা বিয়েতে গড়ায়।
ফুটবল মাঠেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় ছিলেন হোসাম হাসান। সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপে তাঁর অধীনেই শেষ ষোলোতে উঠেছিল মিসর। তবে বিতর্কিত এক ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলটিকে।