শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নির্দেশে দ্রুত এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রবিবার (৫ জুলাই) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ঘটনার তদন্তে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আহত করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয়, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে। তদন্তে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সহিংসতা, অসদাচরণ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের সুযোগ নেই। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা এবং শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি এ ঘটনায় দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রশাসনকে আরও জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর হতে সহায়তা করে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে অনিয়ম, সহিংসতা বা দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।