জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে জাল ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) লেটার তৈরি ও ব্যবহার করে বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শাওন মজুমদার সুমনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন বাদী। অভিযোগ অনুযায়ী, শাওন মজুমদার সুমন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে একটি জাল ডিও লেটার তৈরি করে তাতে তাঁর স্বাক্ষর ও সরকারি লেটারহেড ব্যবহার করেন। ওই পত্রের মাধ্যমে বরগুনা সদর থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন বা উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, কথিত ডিও লেটারটি সচিবালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি। এ ছাড়া পত্রে ব্যবহৃত ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষা, বিন্যাস ও অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সরকারি নথির সঙ্গে মিল না থাকায় সেটিকে প্রাথমিকভাবে জাল বলে প্রতীয়মান হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সরকারি নথি ও পরিচয় অবৈধভাবে ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করার অপচেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলার বাদী দাবি করেন, এ ঘটনার পেছনে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ই-মেইল, প্রিন্টিং উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫ (জালিয়াতি), ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১২০-বি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে কথিত জাল ডিও লেটার, প্রকৃত ডিও প্যাডের নমুনা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও সংযুক্ত করা হয়েছে।