বিশ্বের শীর্ষ মুসলিম বান্ধব পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি, মুসলিম পর্যটন অর্থনীতির বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হতে চায় মালয়েশিয়া। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমাদ জাহিদ হামিদি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, পর্যটনকে হালাল পণ্য ও সেবায় উদ্ভাবন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিশ্ব ইসলামী পর্যটন ও বাণিজ্য প্রদর্শনী ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমাদ জাহিদ বলেন, একজন পর্যটকের অর্থনৈতিক অবদান শুধু হোটেল বুকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রতিটি ভ্রমণের সঙ্গে পরিবহন, খাবার, খুচরা পণ্য, বিনোদন, ডিজিটাল সেবা, স্থানীয় পণ্য এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার চাহিদা তৈরি হয়। ফলে পর্যটনকে অর্থনীতির বহুগুণ প্রভাবসৃষ্টিকারী খাত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে সারা বিশ্বে মুসলিম পর্যটকের সংখ্যা ১৯ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছেছে। ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে ২৬ কোটি ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে মুসলিম পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যয় ৩১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম পর্যটকদের প্রত্যাশাও বদলেছে। এখন তারা শুধু হালাল খাবার, নামাজের ব্যবস্থা কিংবা উপযোগী আবাসন চান না; ব্যবসা, সুস্থতা, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চারসহ বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার জন্যও ভ্রমণ করছেন। এ পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মালয়েশিয়াকে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং হালাল ও মুসলিম বান্ধব পর্যটন-মান আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
আহমাদ জাহিদ পশ্চিম এশিয়ার পর্যটকদের প্রসঙ্গে বলেন, ওই অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক পর্যটক এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ভ্রমণের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তাই (ডব্লিউআইটিইএক্স)-এর মতো প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় এসব পর্যটক আকর্ষণের প্রচষ্টো আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
মালয়েশিয়া টু্যরিজম এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন (এমএটিএ) আয়োজিত ডব্লিউআইটিইএক্স- এর চতুর্থ সংস্করণ ২১ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী পর্যটন, হালাল বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও সংস্কৃতির বিভিন্ন খাতের সংশি্লষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেয়।